চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলা সদরের পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক বাসের চালককে আটক করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন—উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাইন্দং গ্রামের আমতল এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহান (৪৫) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (২২)। তারা মোটরসাইকেলে করে কোথাও যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ৯টার দিকে ঘাতক বিআরটিসি বাসটি খাগড়াছড়ি থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির বাসটি প্রথমে সড়কে থাকা দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে চাপ দিয়ে পাশে ফেলে দেয়। এর পরপরই বাসটি সামনে থাকা মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে চলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা বাবা ও ছেলে দুজনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
জনতার ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও সাধারণ পথচারীরা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চালক ও হেলপার দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতা বাসটি আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর তৎপরতা
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর (সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাইন্দংয়ের আমতল এলাকায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসে আগুন দেয় এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বাসচালককে আটক করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।



