মিথ্যা গুজবে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, দোকান লুট, গ্রেফতার ৫
মিথ্যা গুজবে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, দোকান লুট, গ্রেফতার ৫

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মিথ্যা অভিযোগ ও গুজবের ভিত্তিতে মব তৈরি করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও তার দোকান লুটের ঘটনায় ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে কোমল পানীয় কিনতে আসা এক শিশুর কেনাকাটায় দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে কোনো সত্যতা যাচাই ছাড়াই সংঘবদ্ধ কিছু লোক এ হামলা চালায়।

ঘটনার বিবরণ

হামলার শিকার ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস তার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ পরিচালনা করতেন। ঘটনার সময় এক শিশু কোমল পানীয় কিনতে আসলে কেনাকাটায় কিছু দেরি হলে কিছু ব্যক্তি শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তোলে। পরে তারা মব তৈরি করে খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে বেধড়ক মারধর করে এবং দোকান থেকে মালামাল লুট করে।

গুরুতর আহত দোকান মালিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীর ছেলে রুবেল দাস বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোছাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), আকাশ আহমেদ (২০), মোছাম্মৎ রোজী আক্তার (২০) ও রোকেয়া আক্তার (২২)।

মামলার এজাহারে আরও আসামি করা হয়েছে মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), শোয়েব (৩০), নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), কামাল (২৬), সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫) ও অন্তর (২৬) কে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার পরপরই দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে শ্লীলতাহানির অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জানান, এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘গুজব ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

নিরীহ এক ব্যবসায়ীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা আহত ব্যবসায়ীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।