খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে নানি ও তাঁর কিশোর নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চার বছরের আরেকটি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বেবি বেগম (৫৫) ও তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩)। নিখোঁজ শিশুটির নাম মুস্তাকিম (৪)।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাটির দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে বেবি বেগম ও শামীমের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, নিহত শামীম ও নিখোঁজ মুস্তাকিম ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
সন্দেহভাজনের অবস্থান
পুলিশ জানায়, রফিকুল ইসলামের বাড়ি নগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকায়। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশু মুস্তাকিমের সন্ধানেও তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল।
তদন্ত ও ময়নাতদন্ত
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।



