রাজধানীর সদরঘাটে অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য মো. ফারুককে (৪৪) গ্রেফতার করেছে নৌ-পুলিশ। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা এবং শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারের বিবরণ
নৌ-পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৯ মে রাত ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোলা ইলিশাগামী এমভি ইয়াদ লঞ্চের দোতলায় ডেকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করা এবং অন্যের ব্যাগ হাতানোর ঘটনায় সদরঘাট টার্মিনাল কেন্দ্রিক নৌ-পুলিশ সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। ঢাকা সদরঘাট নৌ থানার টিম ও টহলকারী নৌ-পুলিশের টিম তাৎক্ষণিকভাবে লঞ্চে ডিউটিরত আনসার সদস্য এবং লঞ্চের স্টাফদের সহায়তায় মো. ফারুককে নৌ-পুলিশের হেফাজতে নেয়।
অসুস্থ যাত্রীদের উদ্ধার
লঞ্চের ডেকে মো. ফারুকের পাশের দুই যাত্রী মো. নাসিম হাজারী (৬০) এবং মো. সাহাবুদ্দিনকে (২৮) তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লঞ্চ ছাড়ার সময় হয়ে গেলে অন্য যাত্রীদের বিবেচনায় এমভি ইয়াদ লঞ্চটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএর নৌনিট্রা কর্মকর্তা, লঞ্চের মালিক ও স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পথিমধ্যে অসুস্থ দুইজন যাত্রীকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে লঞ্চ ভিড়িয়ে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিবারকে অবহিত করা হয়। নৌ-পুলিশের তৎপরতায় যথাযথ চিকিৎসায় তারা দুজনই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেন।
অপরাধের ধরণ
অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য মো. ফারুক তার অন্যান্য সহযোগী সদস্যদের সহযোগিতায় দুইজনকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় খাবার কিংবা দ্রব্য দিয়ে অচেতন করে মূল্যবান জিনিসপত্র এবং টাকাপয়সা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এসব ঘটনার বিষয়ে নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।



