যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় ইজিবাইক ও ভ্যানের চালকসহ চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শনিবার দুপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরমুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান রূপদিয়ার চাউলিয়া তেল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা মারা যান। গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভ্যান চালক আনোয়ার আলী ও চার বছরের শিশু সৌভিক সাহার মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন- যশোর সদর উপজেলার ঘুনিপূর্বপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ইজিবাইকচালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া গ্রামের সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪), তার চার বছরের শিশু সন্তান সৌভিক সাহা ও চাউলিয়া গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে ভ্যান চালক আনোয়ার আলী (৭০)।
আহতদের অবস্থা
বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে সাজ্জাদ হোসেনসহ (২৮) আরও দুই আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাকিরুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে জামাল হোসেন জানান, তার বাবা ভ্যানে করে তিন যাত্রী নিয়ে চারুলিয়া যাচ্ছিলেন। পথে কাভার্ডভ্যান ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে চাপা দিলে এতে তার বাবা মারা যান।
বিক্ষোভ ও আগুন
দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে প্রায় ঘণ্টাখানেক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য
ফায়ার সার্ভিস সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কাভার্ডভ্যানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাছুম খান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর নিহতদের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।



