সন্দেহের জেরে আঙ্গুর মিয়াকে হত্যা, ৭ চোরাকারবারির নামে মামলা
সন্দেহের জেরে আঙ্গুর মিয়াকে হত্যা, মামলা ৭ জনের নামে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিজিবির সোর্স সন্দেহে এক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম আঙ্গুর মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার রাজাই সীমান্ত গ্রামের মৃত আবুল মনসুর আলীর ছেলে। শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী, বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা

সোমবার (১৮ মে) রাতে নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাত চোরাকারবারির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- রাজাই গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আকরাম হোসেন, তার সহোদর জাকির হোসেন, মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মাফিক, আব্দুল হেকিমের ছেলে হেলাল। এছাড়া মামলায় দুই থেকে তিন জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

গত শনিবার (১৬ মে) দিবাগত ভোর রাতে স্থানীয় কয়েকজন পেশাদার মাদক ও বিড়ি চোরাকারবারি আঙ্গুর মিয়াকে বিজিবির সোর্স সন্দেহ করে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, শনিবার রাতে ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের তাহিরপুরের চাঁনপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় বিড়ির একটি চালান আটকের পর তাদের বাড়ির উঠানে আসেন। বিজিবি টহল দল চালান নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পর বাড়ির অদূরে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে তিন চোরাকারবারি তার স্বামীর গতিবিধি লক্ষ্য করেন। রাত ৩টার দিকে তার ভাসুরপুত্র সাগর ফোন করে ওই তিন ব্যক্তির নজরদারির বিষয়টি জানালে আঙ্গুর মিয়া তাদের শনাক্ত করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হুমকি ও হত্যা

এর আগে বিজিবি টহল দল ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পর চোরাকারবারি আকরাম, মাফিক, হেলালসহ তিন থেকে চারজন আঙ্গুর মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে আসেন যে, বিড়ির চালান বিজিবিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য রাত পোহালেই প্রকাশ্যে আঙ্গুর মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হবে। রোববার (১৭ মে) বাড়ির অদূরে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে আঙ্গুর মিয়ার লাশ উদ্ধার করে তাহিরপুর থানা পুলিশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসামিরা পলাতক

আঙ্গুর মিয়ার লাশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে চোরাকারবারি আকরাম, মাফিক, হেলালসহ সংঘবদ্ধ চক্রটি আত্মগোপনে চলে যায়। ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, নিহত ব্যক্তি বিজিবির সোর্স নন। চোরাকারবারিরা সন্দেহের জেরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের তদন্ত

মঙ্গলবার তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, নিহতের গলা, হাত ও মুখমণ্ডলে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হত্যা মামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এবং গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।