তালতলীতে সরকারি জমি ব্যবসায়ীকে বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে
তালতলীতে সরকারি জমি ব্যবসায়ীকে বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

বরগুনার তালতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি জমি এক ব্যবসায়ীর দখলে বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের ওসির বিরুদ্ধে। জমি দখলের প্রক্রিয়ায় ওসির সরাসরি উপস্থিত থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে

সোমবার (১৮ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাইদুল ইসলাম থানা পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে চেয়ার পেতে বসে আছেন। তার নির্দেশনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জমি পরিমাপ করে সীমানা পিলার স্থাপন করছেন এবং ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ফরাজীর কাছে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে

উপজেলা শহরের মালিপাড়া স্লুইসগেট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন মো. ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি ও তার পরিবার। সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ফরাজী ওই বসতবাড়ির সামনের এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি কাঠের দোকানঘরের মালিকানা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, ক্রয়সূত্রে তিনি জমিটির মালিক হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষের কাছেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সালিশ বৈঠক ও দখল বুঝিয়ে দেওয়া

জমি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে গত শুক্রবার উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন তালতলী থানার ওসি। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের পর তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ফরাজীকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন। সরকারি জমি উদ্ধারের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলেও একজন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এভাবে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

ভুক্তভোগী ইউসুফ খান বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি। সালিশ বৈঠকে আমাকে একটি কাগজে সই করতে বলা হয়। আমি রাজি না হওয়ায় ওসি আমাদের জেলে পাঠানোর ভয় দেখান। পরে বাধ্য হয়ে কাগজে সই করি। এরপর পুলিশ নিয়ে এসে ইব্রাহীম ফরাজীকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।'

স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, উপজেলা শহরের ভেতরে একটি দোকানঘরের জমির মূল্য বর্তমানে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি। জমির পরিমাণ কম হলেও এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেশি। এ কারণে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি জমি একটি চক্রের দখলে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ।

ওসির বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। পরে তারা আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বললে আমি সেখানে গিয়েছি।'

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, 'জমিসংক্রান্ত বিষয়ে থানা পুলিশ আমাদের অবগত করেনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।'

আইনজীবীর মন্তব্য

এদিকে আমতলী উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম ইছহাক বাচ্চু বলেন, 'আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা দখল বুঝিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই। পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।'