চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভ্যান চুরির অভিযোগে দুদু হোসেন নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফিল্মি কায়দায় তুলে নিয়ে নির্মমভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাউসপুর ব্রিজ এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয়
নিহত দুদু হোসেন উপজেলার আসাননগর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে হাউসপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে অন্তরের একটি ভ্যান চুরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আলমডাঙ্গা অঞ্চলে চুরি হওয়া ভ্যান ও মোটরসাইকেল সাধারণত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় বিক্রি হয়। সেই সূত্র ধরে অন্তর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে পোড়াদহে ভ্যানের খোঁজে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে অন্তরদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুদু হোসেন (২৩) একটি ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তাকে খুঁজতে থাকেন তারা।
রোববার সকালে সুমন, আশিক, বায়েজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজনকে নিয়ে অন্তর যান দুদুর বাড়িতে। সে সময় দুদুর মাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে।’
নৃশংস হত্যাকাণ্ড
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার রাত ৯টার দিকে সংঘবদ্ধ চক্রটি দুদুকে কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ঘিরে চলে নির্মম মারধর। অসহায় যুবকের আর্তচিৎকার রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেও থামেনি নির্যাতন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গার আনন্দধামের শরিফুল ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা লাশ হাউসপুর বটতলা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
প্রতিক্রিয়া ও দাবি
এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে চরম বর্বরতা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।



