চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় দুর্ঘটনা রোধ ও যানজট নিরসনে ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্মাণ শুরুতেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চললেও সম্প্রসারিত অংশের মাঝামাঝি স্থানে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সড়ক বিভাগের (সওজ) বিশাল বিলবোর্ড।
পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের অভিযোগ
খুঁটি ও বিলবোর্ড অপসারণের আগেই সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঝখানে ৪ ফুট ডিভাইডার রেখে উভয় পাশে ২৪ ফুট করে মোট ৫২ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সম্প্রসারণ অংশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে কয়েকটি ভবিষ্যৎ সড়কের প্রায় মাঝ বরাবর পড়ে যাচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের অভিযোগ, খুঁটি অপসারণের সমন্বয় না করেই তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে কোটি টাকার প্রকল্পের টেকসই বাস্তবায়ন নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই একে ‘পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সদস্য সোহাগ মিয়া বলেন, যেখানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা হচ্ছে, সেখানে রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে চার লেন করলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে। আগে খুঁটি সরিয়ে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করা দরকার।
মিনহাজুর রহমান পারভেজ নামক একজন পরিবহন প্রতিনিধি বলেন, রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় এসব খুঁটি চালকদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। সামান্য ভুলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সড়ক সংস্কারের আগেই খুটিগুলো অপসারণ করা জরুরি ছিল।
প্রকল্পের ব্যয় ও দুর্ঘটনার চিত্র
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে রাজঘাটা পর্যন্ত ৮.৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত ৭ কিলোমিটারে ব্যয় ৩৪ কোটি টাকা। আর মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পে ব্যয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
স্থানীয়দের মতে, জাঙ্গালিয়া অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই মহাসড়কের ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এ এলাকায় ছোট-বড় প্রায় অর্ধশত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪ জন।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়কের উভয়পাশের সব বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুঁটি অপসারণে তারা বেশি টাকা দাবি করছে, তাই টাকা জমা দেওয়া হয়নি। পরিকল্পনাবিহীন সড়ক সংস্কারের প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান জানান, সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও খুঁটি অপসারণের জন্য টাকা জমা না দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। টাকা জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



