পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার বিজিবি এই তথ্য নিশ্চিত করে। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম শওকত আলী (৩০)। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১১ মে রাত ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জহুরপুর সীমান্ত দিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অবৈধভাবে গরু আনার উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ওই দলের সঙ্গে থাকা শওকত আলী পরে নিখোঁজ হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এই ঘটনায় শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্পে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রাত দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের বক্তব্য

নিহত ব্যক্তির চাচা আনারুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা লাশটি উদ্ধার করে খবর দিলে আমরা সেখানে গিয়ে নিয়ে আসি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ নিয়ে যায় এবং এখন ময়নাতদন্ত করছে। তবে আমার ভাতিজা গরু আনতে গিয়েছিল, নাকি মাছ ধরার সময় মারা গেছে– সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজিবির বক্তব্য

৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, শওকত আলী ১০ মে গরু আনতে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পুলিশ তা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশের বক্তব্য

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শনিবার রাতে সদর থানার আওতাধীন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। ওসি আরও বলেন, ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিচালনা করছে।

নৌ পুলিশের ধারণা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জীবন চন্দ্র রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএসএফের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হতে পারে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হাতে, পায়ে ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।