স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি, প্রস্তুতি শুরু
স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে অংশগ্রহণ করলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগোতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এক্ষেত্রে এককভাবে নির্বাচনের পথেই হাঁটছে দলটি। এমনটি জানিয়েছেন দলের দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সারজিস আলম।

একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি

দলের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলে পৌঁছার সুযোগ হবে বলে মনে করেন তারা। ইতোমধ্যে সারা দেশেই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। দলীয় সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও প্রার্থী দেবেন তারা। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায়ও থাকবে চমক। কিছু কিছু আসনে মনোনীত প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারেও তারা বাজিমাত করবেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে এনসিপি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ কমিটির অনুমোদন দেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আর সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুগ্ম সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিটির সদস্য হিসেবে আরও রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মঞ্জিলা ঝুমা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশল ও অগ্রাধিকার

এনসিপি নেতারা জানান, প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাই শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় গত ১০ মে দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। এর মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র, ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় ২০ মে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। আর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদেও বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরে যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

জানতে চাইলে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বহু আগে থেকেই। এক্ষেত্রে যোগ্যদেরকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ও যারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংগঠন গুছিয়েছেন, তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আর যেখানে দলীয় শক্তিশালী প্রার্থী নেই, সেখানে ভিন্ন দলের বা স্বতন্ত্র কোনও গণমুখী প্রার্থী থাকলে তাদেরকেও সমর্থন দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল কিনা তা দেখা হবে। এর আগে অবশ্যই তাকে দলে যোগদান করানো হবে।’’

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে যেভাবে দলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে, ঠিক বিভিন্ন এলাকায়ও এমন নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।

একক বনাম জোটগত নির্বাচন

এনসিপির শীর্ষ নেতারা জানান, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে অংশগ্রহণ করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে অংশগ্রহণ করতে চান। সে প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে কার্যক্রম। তারা মনে করেন, সব জায়গায় প্রার্থী থাকলে নতুন দল হিসেবে একেবারেই তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেন তারা।

এ বিষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে যে সংখ্যক আসনে জয়ের সম্ভাবনা থাকতো, এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সেই সংখ্যা কমে যেতে পারে। তারপরও দল নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন প্রতিটি ইউনিটে সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হবে, পাশাপাশি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সক্ষমতা যাচাই ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।’’

সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও মূল্যায়ন

সারজিস জানান, দল বর্তমানে দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, যেসব এলাকায় এখনও সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়নি, সেখানে দ্রুত কমিটি গঠনের কাজ চলছে। দ্বিতীয়ত, আগে থেকে থাকা কমিটিগুলোর কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ও পরবর্তী সময়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা, পরিশ্রম ও সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতে এসব কমিটি পুনর্গঠন ও সংস্কার করা হচ্ছে।

একই কথা জানান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া। তিনি বলেন, ‘‘এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি নিয়ে আগাচ্ছে। শুধু এনসিপি নয়, বিরোধী জোটের সব দলই সেটা করছে। দলগতভাবে যার যার শক্তি নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ জনগণের দৈনন্দিন সংকট নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি চলমান রয়েছে’’

জাতীয় নির্বাচনে সাফল্য ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব

নতুন দল হিসেবে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেই রীতিমতো বাজিমাত করেছে নতুন এ দলটি। জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ ৬টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচনের পর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পান। আর নির্বাচিত আসন অনুপাতে সংরক্ষিত আসনে ১টি আসন পায় দলটি। আর জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও ১টি আসনে সংসদে তাদের সদস্য সংখ্যা ৮ জন।