এনসিপির অভিযোগ: বসুন্ধরা গ্রুপের ৪ গণমাধ্যম হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে
বসুন্ধরা গ্রুপের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনসিপির

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের অধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে, এসব গণমাধ্যম এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি এ কথা বলেছে।

অভিযোগের বিবরণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং এই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে চরম অপেশাদারত্ব দেখিয়ে আসছে এবং নিয়মিত বিরতিতে সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। সংবাদ পরিবেশনার স্বীকৃত সব মানদণ্ড উপেক্ষা করে কোনো প্রমাণাদি ছাড়াই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের চরিত্রহননের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর চিহ্নিত কিছু সংবাদমাধ্যম। স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী এনসিপি এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভূমিকা

এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবাদমাধ্যম সর্বদা গণস্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেবে এটি সর্বজনবিদিত; এ কারণেই একে ‘গণমাধ্যম’ বলা হয়ে থাকে। সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের অধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নানাবিধ প্রচারণায় লিপ্ত হয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। বিশেষত এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে উল্লেখিত এসব গণমাধ্যমে গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে টানা বয়ান উৎপাদন এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কর্তৃক অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর এই প্রোপাগান্ডা মেশিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাঠক আস্থার সংকট

এনসিপি বলেছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ জুলাইয়ের নেতাদের নিয়ে প্রমাণাদি ছাড়াই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর থেকে সাধারণ পাঠক-দর্শকদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টক শোগুলোতে আওয়ামী গণহত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদনের মহোৎসব চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সংবাদমাধ্যমের সংস্কারের আহ্বান

এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের পর ছাত্র-জনতার ক্ষোভের সম্মুখীন হওয়ার পর দেশের সংবাদমাধ্যম স্ব–উদ্যোগে নিজেদের সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের তেমন কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়নি। আমরা দেখেছি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে একদিকে শয়ে শয়ে লাশ পড়ছিল, অন্যদিকে কিছু সংবাদমাধ্যম খুনিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গভীর পরিতাপের বিষয়, ওই সব সংবাদমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা এখনো সেই সময়কার ভুল স্বীকার করেননি। বিগত দিনে গণস্বার্থবিরোধী অবস্থানের ফলে অনুশোচনার বদলে এখনো অনেকে ফ্যাসিবাদী বয়ান উৎপাদনের ধৃষ্টতা দেখিয়ে যাচ্ছে।

দায়িত্বশীল আচরণের দাবি

পাঠক-দর্শকের আস্থা ধরে রাখতে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়া চিহ্নিত ব্যক্তিদের টক শোগুলোতে সঞ্চালক কিংবা আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোর আহ্বান জানিয়ে তারা আরও বলেছে, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগের যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।