জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীকে মুক্তিযুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) তিনি বলেন, এখনো সময় আছে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে দলটির অবস্থান পরিষ্কার করার।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ও ক্ষমা প্রার্থনার প্রসঙ্গ
মির্জা ফখরুল বলেন, ৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা তা করতে পারেননি। উপরন্তু আপনাদের নেতা তখন প্রফেসর গোলাম আজম সাহেব বলেছিলেন ৭১-এ আমরা ভুল করিনি।
তিনি আরও বলেন, এখনো সময় আছে এবং আপনাদের ভেবে দেখা উচিত। বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার করে দেশের মানুষকে জানানো উচিত। আপনারা যদি এই ভুল স্বীকার করে নেন, তবে আপনাদের জন্য রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যাবে।
এনসিপির সঙ্গে জোট ও রাজনৈতিক অবস্থান
জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও মন্ত্রী বলেন, তারা এমন একটা দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। আমি আশা করব, তারা (এনসিপি) তাদের রাজনীতিটা আরও পরিষ্কার করে সামনের দিকে নিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, এনসিপির এই নবীন রাজনীতিবিদদের অনেক ভবিষ্যৎ আছে। তারা ভালো করবেন। আমরা চাই, তারা ভালো করুন। এমন কোনো স্টিগমা (কলঙ্ক) নিয়ে তারা যেন পলিটিকসে না থাকেন যে যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে অস্বীকার করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও পতাকার প্রতীক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০২ সালে চীন সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামনে তারেক রহমানকে বলেছিলেন, ‘ক্যারি দ্য ফ্ল্যাগ অফ ইউর ফাদার অ্যান্ড মাদার’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্বাধীনতার পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা নিয়ে আবারও চীন গিয়েছিলেন। সেই পতাকা নিয়েই তিনি ফিরে এসেছেন এবং দেশের এই অগ্রযাত্রায় বিজয় অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।



