বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফেরার ঘোষণা ও মৃত্যুদণ্ডের রায়
এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এ বছরই দেশে ফিরব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে।’ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ।’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি
আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোন কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।’ তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন সবসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল এবং বর্তমান সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তবতা নিজের চোখে দেখছে।
নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক পুনরুত্থান
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দলের পুনরুত্থান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। এটি জনগণের ওপর নির্ভর করে।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিলের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো মডেলের দিকে এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ দেখেছি।’ তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের উন্নয়নের তুলনা টেনে বলেন, ‘২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় পৌঁছেছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলারে।’
গোপন আলোচনার গুজব
বিএনপির সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনার গুজব নাকচ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত।’ তিনি গোপন সমঝোতার পরিবর্তে প্রকাশ্য ও নীতিনিষ্ঠ সমাধানের ওপর জোর দেন।
সংখ্যালঘু নির্যাতন
মন্দির ও হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।
নির্বাসিত জীবন
নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে।’ তিনি দেশের সংকটময় মুহূর্তে সেখানে থাকতে না পারার বেদনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি।’



