শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের তিন নেতাকে শোকজ
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের তিন নেতাকে শোকজ

সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শোকজ পাওয়া নেতারা

শোকজ পাওয়া নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম রেজা, সদস্য মো. জাহিদ হাসান এবং এস এম তানিম হাসান।

নোটিশের নির্দেশনা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে কী কারণে তাঁদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের বিবরণ

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সেলিম রেজার বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটক এলাকায় মামা প্লাজায় নতুন করে দোকানপাট বসানোর চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামা প্লাজার দোকানদার ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলিফের বাবা মো. বুলবুলকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ চলাচলকারী ইলেকট্রিক কার্ট আটকে রাখাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা দাবির মতো বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা একাধিকবার সেলিম মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। এ ছাড়া ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামও তাঁকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন বলে জানা গেছে। এরপরও সেলিম রেজা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। সেলিম রেজার সঙ্গে বাকি দুজন জাহিদ হাসান, এস এম তানিম হাসানের সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে তাঁদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের বক্তব্য

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শোকজ পাওয়া ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক এলাকার যে ঘটনায় আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেটা আমি সংবাদ সম্মেলন করে আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা আমি ঘটাইনি। শহীদ পরিবারের সঙ্গে আমি কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করিনি। জুলাই আন্দোলনে সাভার এলাকায় আমার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক কার্ট আটকে রাখার বিষয়ে সেলিম রেজা বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনার সাথে আমি সম্পৃক্ত নই। রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকে, তাই বলে এভাবে ষড়যন্ত্র করা ঠিক না। আমার সঙ্গে বাকি যে দুজনকে শোকজ করা হয়েছে, তারা আমার সঙ্গে রাজনীতি করে বলে তাদের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার আমরা।’