পশ্চিমবঙ্গে অভূতপূর্ব: রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিলেন, মমতা ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি
পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকট: রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিলেন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারার ২(বি) উপধারা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল আর এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা কর্তৃক প্রকাশিত এক গেজেট নোটিফিকেশনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাজ্যপাল রবি স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধান তাকে আইনসভা ভেঙে দেওয়ার যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়েছে, তিনি সেই অধিকার ব্যবহার করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মমতার অনড় অবস্থান

এই নাটকীয় মোড় আসার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৭ মে বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৫ মে এক সংবাদ সম্মেলনেই মমতা তার অনড় অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন যে নির্বাচনে তিনি হারেননি, ফলে ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নিজেকে ‘রাস্তার মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা করেছেন যে তার এই রাজনৈতিক লড়াই এখন থেকে রাজপথেই চলবে।

ইন্ডিয়া জোটের সমর্থন

মমতার এই অবস্থানের পর কলকাতার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যতম নেতা অখিলেশ যাদব। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে এই লড়াইয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মমতার পাশে থাকবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যেই রাজ্যে সহিংসতার ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতের এই হামলায় চন্দ্রনাথের পাশাপাশি তার গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার কারণেই তাঁর নির্দোষ সহকারীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তিনি দোষীদের কঠোরতম শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্তের অগ্রগতি

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং দুষ্কৃতকারীদের ব্যবহৃত মোটরবাইকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা সরাসরি জড়িতদের সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একদিকে বিধানসভা বিলুপ্তি এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক খুনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এক অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ ও উত্তাল সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।