সান্তাহারে রেলের জমিতে অবৈধ দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ
সান্তাহারে রেলের জমিতে অবৈধ দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন এলাকায় রেলের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানঘরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শতাধিক দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অবৈধ স্থাপনা ও বিদ্যুৎ সংযোগ

জানা যায়, সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের কাছে রেলক্রসিং-সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ফাঁকা জায়গা দখল করে অসংখ্য দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের রেলের কোনো অনুমোদন বা লিজ নেই। অথচ সেখানে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ অনুযায়ী সংযোগ পেতে গ্রাহকের পরিচয়, সঠিক ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানের বৈধ দখল থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি বিতরণ কোম্পানির সাপ্লাই কোড মেনে চলাও জরুরি। কিন্তু ওইসব দোকানে এসব শর্ত উপেক্ষা করেই বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা হলেই অবৈধভাবে স্থাপন করা দোকানগুলোতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে ওঠে। মাত্র তিনটি মিটার থেকে অসংখ্য দোকানে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মিটারগুলো কোনো বৈধ স্থাপনায় না বসিয়ে একটি দোকানের পেছনের দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি দোকান থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয়। প্রতি বাতির জন্য ২০ টাকা করে রেলগেট ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন আদায় করেন। সমিতির নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের অভিযান ও পুনঃসংযোগ

তারা আরও বলেন, এর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। পরে প্রভাবশালী মহল ও বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে পুনরায় সংযোগ চালু করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সান্তাহার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল আলী বলেন, কোনো গ্রাহক একক মিটার থেকে পাশের স্থাপনায় সংযোগ দিতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, রেললাইনের আশপাশের ফাঁকা জায়গায় যেকোনো স্থাপনা গড়ে তোলা আইনগতভাবে অবৈধ। রেলক্রসিং এলাকা ও রেললাইনের মধ্যবর্তী স্থানে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর কোনো বৈধতা নেই।

তিনি আরও জানান, এর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে দোকান সরিয়ে নেওয়া হলেও দুই দিন পর আবারও অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করা হয়। অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নেসকো বরাবর একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে, আবারও আবেদন করা হবে।