মমতার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন বিরোধী নেতাদের
মমতার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে সমর্থন বিরোধীদের

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী নেতারা। একে কেন্দ্রের ‘স্বৈরাচার’ এবং নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন তারা। কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

শিবসেনার সমর্থন

শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এখন কেন্দ্রের ‘দাসে’ পরিণত হয়েছে। রাউত বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করাটা মূলত সরকার, নির্বাচন কমিশন ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার আন্দোলনেরই অংশ।’

উদ্ধব ঠাকরের আশ্বাস

শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও মমতাকে ফোন করে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মমতার বক্তব্য

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই নির্বাচনি ফলাফল জনমত নয়, বরং একটি বড় ‘ষড়যন্ত্র’। তিনি বলেন, ‘কেন আমি পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি। জনগণের রায় লুটে নেওয়া হয়েছে। তাই পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনে কারচুপি হয়েছে এবং তৃণমূলের মনোবল ভাঙতে ভোট গণনার গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

তৃণমূলের রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ একে ‘বিজেপি-ইসি’র যোগসাজশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন যেভাবে কারচুপি করা হয়েছে, মমতার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত ইতিহাসে তার তীব্রতম প্রতিবাদ হিসেবে লেখা থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অখিলেশ যাদবের দাবি

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের উচিত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের কার্যক্রম যদি সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার হতে পারে, তবে ভোট গণনা কেন নয়? সিসিটিভি ফুটেজ কেন লাইভ করা হচ্ছে না? তারা কীসের ভয় পাচ্ছে? অখিলেশ শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাবেন বলেও জানান।

রাহুল গান্ধীর সমর্থন

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তৃণমূলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের পরাজয়ে যারা উল্লাস করছেন, তাদের উচিত সংকীর্ণ রাজনীতি সরিয়ে রাখা।

শরদ পাওয়ার এনসিপির অভিযোগ

শরদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি) মুখপাত্র মহেশ তাপসে অভিযোগ করেন, সিবিআই, ইডি, আয়কর দফতর ও সিআরপিএফের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির কারণে অনেক ভোটার স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, পরাজয়ের পরও পদত্যাগ না করার মমতার এই জেদকে ‘নৈরাজ্যবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার এই অবস্থান ভারতীয় গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থি এবং এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে ‘হাস্যকর’ করে তুলছেন।

নির্বাচনের ফলাফল

উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। তবে এই ফলাফলকে ‘সাজানো’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।