বিএনপির প্রতিশ্রুতিতে প্রতারণার অভিযোগ নাহিদ ইসলামের
বিএনপির প্রতিশ্রুতিতে প্রতারণা: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, প্রতিশ্রুতি—সবকিছুর সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার বা বারবার ফিরে আসার একটা দরজা সব সময় খোলা রাখা হচ্ছে। যেকোনো একটা টেকসই সংস্কার, একটা নতুন যাত্রা করার জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ লাগবে।

গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশনের সমাপনী পর্বে সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশন’ শীর্ষক এই আয়োজনের শেষ পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে জুলাই সনদ, সংস্কার ও গণভোট’।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা

সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যেসব মৌলিক সংস্কারের কথা আমরা বলেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন হলেই যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, এ রকম নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু প্রয়োজন। কিন্তু আমরা ধাপে ধাপে এগোনোর জন্য এই কয়েকটা সংস্কারে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলাম কিছু মৌলিক সংস্কারে। নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হলো। আমরা বলেছিলাম, সংস্কারগুলো করতে হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে। সংশোধনের মাধ্যমে বিএনপি যত সংস্কার বা পরিবর্তনই আনুক না কেন, সেটা টেকসই হবে না, সেটা পরিবর্তনশীল হয়ে যাবে। আজকে তারা ক্ষমতায় আছে, কিন্তু চিরকাল কোনো দল ক্ষমতায় থাকে না। জিয়াউর রহমান সেই ঐতিহাসিক ভুল করেছিলেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া সংশোধন করা হলে যে কেউ এসে তা বাতিল করতে পারবে, আদালত যেকোনো সময় তা বাতিল করে দিতে পারবেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই আদেশ জনগণের সম্মতি পেয়েছে

জুলাই সনদে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট সম্পর্কে কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, সংসদে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে অনেক বিরোধিতা আছে, অনেকের বক্তব্য আছে যে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত নই, এ রকম হতে পারে। তার সেই নোট অব ডিসেন্ট রেকর্ডেড হয়, সিদ্ধান্ত কিন্তু পাস হয়ে যায়। নোট অব ডিসেন্ট ঠিক এ রকম একটা জায়গা।’

একটি হিস্টোরিক্যাল ডকুমেন্ট (ঐতিহাসিক নথি) বা রেকর্ড হিসেবে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এটা কোনো সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না। কিন্তু জুলাই সনদ যেদিন, সেদিন আলাদা করে নোট লেখা হয়েছে সব জায়গায়—যে দল ক্ষমতায় আসবে, সেই দল নিজের মতো করে সংস্কার করবে। তাহলে তো ঐকমত্য বা জুলাই সনদের কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। সেই জায়গা থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট দেওয়া হয়। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই আদেশ জনগণের সম্মতি পেয়েছে। জুলাই আদেশ জনগণ মানে কি মানে না, সেই প্রশ্ন গণভোটে ছিল।

জুলাই ঘোষণাপত্র ও সরকারের ভূমিকা

জুলাই ঘোষণাপত্র সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অঙ্গীকার অনুযায়ী, জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানের তফসিলে যুক্ত হওয়ার কথা। সে বিষয়ে আমরা সরকারকে এখনো কথা বলতে শুনিনি।’

আলোচনাগুলো শিগগিরই রাজপথে প্রতিধ্বনিত হবে

কনভেনশনের সমাপনী বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লড়াই যদি বারবার হোঁচট খায়, তাহলে মানুষকে বারবার আবার রাজপথে নামতে হবে, আবার আন্দোলন-সংগ্রামে যেতে হবে, যেটা আমরা চাই না। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এই গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলো করে আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। লাখ লাখ মানুষ সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই ভোটের প্রতিফলন না দেখলে তারা বসে থাকবে চুপচাপ, এটা মেনে নেবে—এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সঠিক সময় ও দিনের অপেক্ষায় আছে জনগণ। সেই দিনের আগেই যদি সরকার বুঝতে পারে...

সংসদের প্রথম অধিবেশনকে বিএনপি সরকার ব্যর্থ করেছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘যে অধিবেশনে আমাদের আলোচনা করার কথা ছিল কীভাবে আমরা সংস্কার বাস্তবায়ন করব, অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করব—সেই সবকিছু বাদ দিয়ে সরকার তার মতো করে সংসদকে পরিচালিত করেছে। এটা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে রাজপথে জনগণের আন্দোলনই একমাত্র রাস্তা হয়ে দাঁড়াবে। তার আগে যাতে সরকার নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে।’

তাঁদের এসব আলোচনা শিগগিরই রাজপথে প্রতিধ্বনিত হবে—এই কথা বলে বক্তব্য শেষ করেন নাহিদ।