গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে দেশ সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার: জামায়াত নেতা
গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে দেশ সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত 'গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ' শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জুলাই সনদের আড়ালে গণভোটের রায় অস্বীকার

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আড়ালে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অবস্থান। আজ শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকোয়েট হলে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। 'গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ' শিরোনামে সেমিনারটির আয়োজন করে খুলনা মহানগরী জামায়াত ইসলামী।

সরকারের বিভ্রান্তিকর কৌশল

গোলাম পরওয়ারের দাবি, সরকার সচেতনভাবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়-এই দুই বিষয়কে আলাদা করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। সরকার ও মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে বারবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটে জনগণের দেওয়া সরাসরি রায়ের বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, গণভোটের আগে দীর্ঘ চার মাস সময় থাকা সত্ত্বেও সরকার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন আপত্তি তোলেননি? ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর, ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ, ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ, ফেব্রুয়ারিতে ভোট-এই পুরো সময়ে কেউ বলেননি যে এসব অসাংবিধানিক। অথচ ক্ষমতায় বসেই সবকিছু 'অবৈধ' বলা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা

সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায় জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, যেসব বিষয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে, সেগুলোর কয়েকটি হলো, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলপ্রধান থাকতে পারবেন না, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বপদ্ধতি মানতে অস্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন ও অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা না মানা, বিচারপতি নিয়োগে স্বাধীন কমিশনের বিরোধিতা, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কমানোর প্রস্তাব। এসব জায়গা বাদ দিলে পুরো সংস্কার অর্থহীন হয়ে যায়।

সরকারের বর্তমান অবস্থানকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি গণতন্ত্র নয়, ফ্যাসিবাদের লক্ষণ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশে আবারও সংঘাত, অস্থিরতা ও রক্তপাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, 'সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখনো সুযোগ আছে। সংকট এড়াতে হলে জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করতে হবে। অন্যথায় এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। পাঁচ কোটি মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা যদি সংসদে বাস্তবায়ন না হয়, আমরা আবার জনগণের কাছে ফিরে যাব। আন্দোলনই তখন একমাত্র পথ।'

সেমিনারে অন্যান্য বক্তব্য

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুহাম্মদ শাহ আলম।

মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন সাবেক উপসচিব শ ম আবু তালিব, খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, এনসিপির খুলনা মহানগরীর প্রধান সমন্বয়ক আহম্মদ হামীম, খুলনা মহানগরী খেলাফত মজলিশের সভাপতি এফ এস হারুন অর রশীদ প্রমুখ।