বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তারেক রহমান
বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বন্ধ হওয়া সব কারখানা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে গত এক মাস আগে বিশেষ বৈঠক হয়। চলতি সপ্তাহে আরও বৈঠক হবে। এ জন্য দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অতীতে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ফলে মানুষ ছাত্র-জনতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন দেশ গড়ার পালা। সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলবো।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা

তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে দেশ। বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে তখনই কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ যাতে বন্ধুহীন হয়ে পরে তারা সেই চেষ্টা করছে। তবে বিশ্ব দরবার তাদের কথায় কর্ণপাত না করে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিকদের অধিকার

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের খেটে খাওয়া মানুষদের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছিল। প্রত্যেকটি সেক্টরের শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ছিনিমিনি খেলেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সময় কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। কীভাবে এই দেশের কল কারখানা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। স্বৈরাচার লুটপাট করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেয়। এবাবেই প্রতিটি সেক্টরে ধ্বংস করে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি সেক্টরের শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করেছে। এখন সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার পালা। আমার সামনে একটি ব্যানার আছে। সেখানে লেখা আছে বন্ধ কল কারখানা খুলে দিতে হবে। আপনারা জানলে খুশি হবেন, যত দ্রুত সম্ভব এসব বন্ধ কল কারখানা খুলে দেওয়া হবে।

হকারদের পুনর্বাসন

হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলেছি তারাও মানুষ তাদেরও অধিকার আছে। তাই উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা কথা বলেছি।

রাষ্ট্র মেরামতের প্রয়োজন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র মেরামত করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বলেছি। কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র নারী, সাধারণ নাগরিক, প্রত্যেকটি শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য আমরা পরিকল্পনা দিয়েছি। আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, যারা দেশকে বিপর্যয়ের পর্যায়ে নিতে চায়, দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চায়, সবাই মিলে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে, জবাব দিতে হবে। যেভাবে আমরা স্বৈরাচারকে ১৭ বছর জবাব দিয়েছিলাম।

সমাবেশে বক্তারা

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন– বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান ও আব্দুস সালাম প্রমুখ।

বিকাল সোয়া ৪টায় সমাবেশস্থলে পৌঁছলে মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের অভিবাদন জানান। এর আগে বিকাল ৩টায় সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়।

পূর্বনির্ধারিত সময় দুপুর আড়াইটায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও সকাল থেকেই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ প্রভৃতি জেলার শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকরা সমাবেশে আসতে শুরু করেন। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা স্লোগান দেন তারা। নেতাকর্মীদের বিস্তৃতি নয়াপল্টনে ছাড়িয়ে কাকরাইল, নাইটিঙ্গেল ও ফকিরেরপুল মোড় পযর্ন্ত ছড়িয়ে পড়ে।