রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের লাশ তার যশোরের বাড়িতে পৌঁছেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শহরের কারবালা এলাকায় তার বাড়িতে লাশ পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাতেই জানাজা শেষে শহরের কারবালা কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।
কে এই টিটন
নিহত টিটন যশোর শহরের কারবালা এলাকার কেএম ফকরউদ্দিনের ছেলে। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই মুখোশধারী তাকে গুলি করে হত্যা করে।
অপরাধ জগতে পদার্পণ
যশোর শহরের কারবালা এলাকায় জন্ম নেওয়া টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যশোর ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। পরে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে অপরাধ জগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন এবং অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।
মামলা ও গ্রেফতার
তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা। ২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি তালিকায় স্থান
অপর একটি সূত্র জানায়, ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার দুই নম্বরে ছিল খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের নাম। তিনি মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী চক্র হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়।
মামলা দায়ের
নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব সাংবাদিকদের জানান, টিটন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বুধবার সকালে অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ছোট ভাইয়ের লাশ বুঝে নেন রিপন। এ সময় বসিলা গরুর হাট নিয়ে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে টিটনের বিরোধের কথা তিনি বলেন।



