গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় চাঁদা দাবির অভিযোগে সাব্বির আহমেদ নামে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (৮ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আটক সাব্বির আহমেদ (৩০) রুদ্রপুর এলাকার আরফান আলীর ছেলে। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, টাইলস ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকনের ক্রয়কৃত জমিতে গত রোববার (৭ জুন) বিকালে বালু ভরাটের কাজ চলছিল। এ সময় সাব্বির আহমেদ ও তার কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুরুদ্দিন খন্দকারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং টাকা না দিলে জমিতে কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৮ জুন সকালে পুনরায় বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে সাব্বির আহমেদ ও তার সহযোগীরা আবারও ঘটনাস্থলে এসে চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুরুদ্দিন খন্দকারের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে তার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
অভিযোগকারী দাবি করেন, হামলার একপর্যায়ে সাব্বির তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে উত্তেজিত জনতা সাব্বির শামীমকে আটক করে রাখলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি সেখানে উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে বালু ভরাট শুরু করেন। এ ঘটনায় জমির মালিক নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন (৪৬) জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আসামির বক্তব্য
তবে সাব্বির আহমেদ শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু ভরাটের কাজ তাদের জমির ওপর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সে কারণে তিনি বাধা দিয়েছেন। চাঁদাদাবির অভিযোগ সঠিক নয়।
ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পদক্ষেপ
জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর বলেন, এ ঘটনায় নুরুদ্দিন খন্দকার নামে একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।



