তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ৪৭ বছর বয়সী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তিনি নিজেই জানিয়েছেন, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস বিদ্রোহী শিবিরকে তৃণমূলের মূল সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঋতব্রত দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই নতুন ফ্রন্টের ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বহিষ্কার ও বিদ্রোহের পটভূমি
দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস যে দুজন বিধায়ককে বহিষ্কার করেছিল, ঋতব্রত তাদের একজন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সংবাদ সম্মেলনে ঋতব্রতের নাম প্রকাশ করার এবং স্পিকার বিদ্রোহী নেতার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানানোর ঠিক ১৫ মিনিটের মাথায় তৃণমূল এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর আগে ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক দল থেকে বহিষ্কৃত এই নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেন। এই নাটকীয় ঘটনার পর তৃণমূলের সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত চলে গেছে বিদ্রোহীদের হাতে, যা সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু
২০০০ সালের শুরুর দিকে ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে ঋতব্রতের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিএম) ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সিপিএমের রাজনীতিতে বেশ দ্রুতই তার পদোন্নতি ঘটে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে সিপিএমের পক্ষ থেকে তাকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল।
সিপিএম থেকে বহিষ্কার ও তৃণমূলে যোগ
২০১৭ সালে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হন ঋতব্রত, যা ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বড় একটি ধাক্কা। তার বিলাসবহুল জীবনযাপন, বিশেষ করে অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহার করা তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের পরিপন্থি হিসেবে দেখা হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তাকে সাদরে বরণ করে নেয়। দলে যোগ দেওয়ার পরপরই তাকে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের (ট্রেড ইউনিয়ন) দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে জহর সরকারের পদত্যাগের পর তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রতকে আবারও রাজ্যসভায় পাঠায়।
নির্বাচনে জয়
চলতি বছরের শুরুতে বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব আসন থেকে ঋতব্রতকে প্রার্থী করে তৃণমূল। সব ধরনের প্রতিকূলতা এবং রাজ্যে বিজেপির ব্যাপক জয়জয়কারের মধ্যেও ঋতব্রত নিজের আসনটিতে জয়ী হতে সক্ষম হন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া



