ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং বিএনপির কর্মী ছিলেন।
আহতদের পরিচয়
আহতরা হলেন- আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০) ও দিনি মিয়া (৩৫)।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, ঘাতক মাহিন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। নিহত রানার স্বজন মাহাবুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনে তারা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন এবং ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। এরপর থেকে জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টারের সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে তাদের বাড়ির সামনে দোকানে তরল পানিও কিনতে আসে। এসময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এতে মফিদুল মাস্টারের বাড়ির লোকজন মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা তাদের বাড়িতে হামলা করে। পরে মফিদুল মাস্টার নিজে তাদের বাড়িতে এসে বিষয়টি মিমাংসা করে চলে যান।
মাহাবুল আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে মফিদুল মাস্টার অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন লোকজন নিয়ে এসে হামলা করে। হামলার সময় মফিদুল মাস্টারের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করে। হামলায় আরও ছয়জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহত রানার ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "আমার ভাইকে বিনা কারণে মফিদুল মাস্টারের ছেলে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে হত্যা করেছে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।"
জামায়াত নেতার বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টার। তিনি বলেন, "আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।"
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল এহসান ইমরুল বলেন, "ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বলে আমরা জেনেছি। এটি পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি।"
সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া
এব্যাপারে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, "নিহত রানা বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। সে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।"
পুলিশের ব্যবস্থা
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"



