পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র নিন্দা
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর নিন্দা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। বিবৃতি, খোলা চিঠি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যানের খোলা চিঠি

আজ বৃহস্পতিবার এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মত ও পথের প্রতিনিধিদের নিয়ে হত্যার শিকার শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি কঠোর বার্তা দেবে যে শিশু নির্যাতন ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ।

খেলাফত মজলিসের উদ্বেগ

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকেও শিশু হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁরা রাজধানীতে শিশু হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত এবং শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারী সংগঠনের বিবৃতি

এই হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খেলাফত মজলিসের নারী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিস। এক বিবৃতিতে এই হত্যায় জড়িত ও ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে তারা।

ছাত্রী সংগঠনের বিক্ষোভ

শিশু হত্যার প্রতিবাদ ও সারা দেশে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে খেলাফত মজলিসের ছাত্রী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর। সমাবেশ থেকে শিশুটির হত্যাকারীর ‘জনসম্মুখে ফাঁসি’ কার্যকরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিবাদ

রাজধানীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা, সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি সমাবেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

মহিলা বিভাগের বিবৃতি

পল্লবীতে শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ জানায়, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং শিশু ও নারীর নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। দোষীকে দ্রুত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সারা দেশে নারী ও শিশু নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানায় তারা।

ছাত্রশিবিরের বিবৃতি

গতকাল ছাত্রশিবির এক বিবৃতিতে এই শিশু হত্যাকাণ্ডকে পাশবিক ও অমানবিক বলে উল্লেখ করে। তাঁরা বলেন, এই রোমহর্ষক ঘটনা প্রমাণ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয় চরম স্তরে পৌঁছেছে। তারা শিশু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোও শিশু হত্যাকাণ্ডে বিবৃতি দিয়েছে, কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও আইনি ব্যবস্থা শিশুদের বর্বরতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারছে না। নারীদের নৃশংসতা থেকে রক্ষা করতে পারছে না। তাই শিশু ও নারীদের বর্বরতার হাত থেকে রক্ষা করতে শরিয়াহ আইন বিকল্প হতে পারে।

ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ

একই দিন রাজধানীতে এক সমাবেশ থেকে শরিয়াহ আইনে ধর্ষক ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে। একই ধরনের দাবি জানিয়ে আজ বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের বিবৃতি

এদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে শিশু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, চুরি ও ডাকাতির মতো ভয়াবহ অপরাধ দমনে ইসলামী ফৌজদারি আইন কার্যকর করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক দণ্ডবিধান চালু হলে এসব অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।