প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের ঐতিহাসিক উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে আসছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে আসছেন। এই খালটি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৫০ বছর আগে নিজ হাতে খনন করেছিলেন। তবে এখনো প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও পরিদর্শন
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান সাংবাদিকদের জানান, "আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রীর সিডিউল পাওয়ার জন্য।"
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে উলাসী-যদুনাথপুর খাল পরিদর্শন করেছেন:
- জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান
- পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম
- জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু
- জিলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন
- শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ
- স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জিয়া মডেল
১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। ৬ মাস পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে খালটি উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
এই খাল খনন কর্মসূচির সাফল্যের পর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সারা দেশে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন, যা পরে 'জিয়া মডেল' নামে পরিচিতি লাভ করে। এই মডেল গ্রামীণ উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমান অবস্থা ও পুনঃখননের গুরুত্ব
দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে উলাসী-যদুনাথপুর খাল সংস্কার না করায় এটি পলি জমে ভরাট হয়েছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। এই খালটি স্থানীয় মানুষের কাছে 'জিয়া খাল' নামে বেশি পরিচিত।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা তার পিতার দেখানো পথেই অগ্রসর হওয়ার প্রতীক। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কৃষকদের জন্য সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা - জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। খাল পুনঃখনন কাজের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।



