জনগণের আস্থা অর্জন ও নিরপরাধের হয়রানি রোধে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
জনগণের আস্থা অর্জন ও নিরপরাধের হয়রানি রোধে পুলিশের প্রতি আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেডে’ তিনি এ কথা বলেন।

জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বরং বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে সরকারেরও সাফল্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের ভূমিকা ও দায়িত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা ও নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায়, সেখানে তারা পুলিশের আচরণে যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বের অংশ।

আইনি সহায়তা ও মানবিকতার প্রয়োজন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে। বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। তাই থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে, এমন ধারণা তৈরি করা জরুরি। পুলিশকে আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবিকতার ছোঁয়া রাখতে হবে, যাতে সরকারের সাফল্য জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীতের সমালোচনা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। জনগণের বিশ্বাস অর্জন ও বজায় রাখাই পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সরকার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পুলিশের চাওয়া-পাওয়া ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

থানা পুলিশের পরিবেশ ও জনমুখী উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চান যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন এবং প্রতিকারও পেতে পারেন। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে-র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সমাজে বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা অপরাধ প্রবণতা রয়েছে। মাদক এবং অনলাইন জুয়া নিয়েও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী ও মাদকের উৎসমূল টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও সাইবার পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ জরুরি। এ লক্ষে সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মানবাধিকার ও আইনের শাসন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায়। গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

পুলিশের আধুনিকায়ন ও কল্যাণ

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে আরো দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীকেও আরো দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষে পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

সরকারের অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না। দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সকল প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ বা মাসে পূরণ সম্ভব নয়, কিন্তু পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার পিছপা হবে না।

অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পথ সহজ নয়, কিন্তু উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।