ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা প্রস্তুতি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা প্রস্তুতি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া, সড়কে কোরবানির পশুর হাট না বসানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বাড়ানোসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

প্রস্তুতিমূলক সভা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মন্ত্রিসভার কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টসে তিন দফায় ছুটির বিষয়ে সরকারের দাবি রয়েছে। তাঁরাও (মালিক) রাজি হন; কিন্তু গতবার কার্যকর হয়নি। তাঁরা বলেছেন কিছু কিছু গার্মেন্টসে এমন কার্যাদেশ থাকে, তাঁদের কাজ করাও জরুরি হয়ে যায়, না হয় অর্থনৈতিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ তিনি বলেন ‘এখনো নিশ্চয়তা দিতে পারছি না, আমাদের দাবি রয়েছে, তারা যেন তিন দিনে অথবা চার দিনে ধাপে ধাপে, যাদের ওই রকম কার্যাদেশ নেই, তারা একটু আগে গেল, এই বিবেচনার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছি। তারাও নিশ্চিত করেছে।’ তবে গতবারও যেহেতু হয়নি, তাই এ নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কাও আছে বলে জানান মন্ত্রী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ

পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে ২০ থেকে ৩১ মে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিচালিত হবে। এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং

এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।

বিজিবি মোতায়েন ও বিশেষ সার্ভিস

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদ–পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রাখা হবে। ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিসি ঢাকা মহানগর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হবে। ‘পিক আওয়ারে’ যাত্রীর চাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়কের নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ চিকিৎসক দল পেশাজীবী চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রমুখ।