পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সমীক্ষা প্রায় শেষ, শিগগির একনেকে অনুমোদন
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সমীক্ষা প্রায় শেষ

দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারেজ’-এর কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৬ মে ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পটি শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি মূলত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্ট পানিসঙ্কট, মরুকরণ এবং লবণাক্ততা রোধ করাই এর মূল লক্ষ্য। পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৪টি জেলার মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি কেবল সেচ প্রকল্প নয়; বরং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা, মৎস্য চাষ এবং কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

নির্মাণ পরিকল্পনা ও ব্যয়

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংসা পয়েন্টে এই ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪,৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পের বিশালতা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সরকারের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও খাল খনন

বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে তিস্তা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগেই সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নদী শাসন নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।