ভূমি প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ: জনসেবায় কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে জাতীয় জনসেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তিনি ভূমি ভবন পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
পরিদর্শন ও কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়
প্রতিমন্ত্রী ভূমি ভবনের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি ভূমি জাদুঘর, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং সেল, ভূমি সেবা কেন্দ্র এবং ভূমিসেবা কল সেন্টার রুম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পর্কে আগ্রহের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সেবকের ভূমিকায় থাকার আহ্বান
উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ভূমি ব্যবস্থাপনায় যারা আপনারা নিয়োজিত আছেন, তারা সেবকের ভূমিকায় থাকবেন। ভূমির প্রকৃত মালিক সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় আপনারা সর্বদা নিবেদিত থাকবেন।" তার এই বক্তব্যে জনসেবার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
দক্ষ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও বেশি তৎপর হতে হবে। তিনি কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সব ধরনের কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "জনসেবার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।" এছাড়া অফিসে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যথাসময়ে উপস্থিতি ও অফিস ত্যাগের জন্য সকলকে সচেতন হওয়ার জোরালো নির্দেশনা দেন তিনি।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. আশ্রাফুল ইসলাম। তাদের উপস্থিতি এই পরিদর্শনের গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনকে তুলে ধরে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগটি সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনা ভূমি সেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষের জন্য আশার আলো বয়ে আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



