ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন ১২ মে, তফসিল ঘোষণা ৮ এপ্রিল
সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন ১২ মে, তফসিল ৮ এপ্রিল

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন ১২ মে, তফসিল ঘোষণা ৮ এপ্রিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী ৮ এপ্রিল। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত একাদশ কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, "আজকের বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তফসিল ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল পরবর্তীতে জানানো হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন যে বৈঠকে মোট পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে এই নির্বাচন তফসিল প্রধান বিষয় ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জোটগত প্রার্থী ও আসন বণ্টন

আখতার আহমেদ জোটগত প্রার্থীদের বিষয়ে বলেন, ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী একজোট হয়ে নির্বাচন করছেন। বিএনপির সঙ্গে তিন রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং আন্দালিব রহমান পার্থ। অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি এবং খেলাফত আন্দোলন জোট গঠন করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন না, এটি তিনি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন।"

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি সংরক্ষিত মহিলা আসন পাবে, জামায়াত জোট ১৩টি আসন পাবে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবেন।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের পদত্যাগের কারণে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বর্তমান সংসদে দলীয় অবস্থান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দলীয় আসন বণ্টন নিম্নরূপ:

  • বিএনপি: ২০৮টি আসন
  • জামায়াত: ৬৮টি আসন
  • এনসিপি: ৬টি আসন
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২টি আসন
  • ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ: ১টি আসন
  • গণঅধিকার পরিষদ: ১টি আসন
  • বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি): ১টি আসন
  • গণসংহতি আন্দোলন: ১টি আসন
  • খেলাফত মজলিস: ১টি আসন
  • স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৭টি আসন

সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টনের নিয়ম

আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টনের জন্য একটি নির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোনও দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, সেটিই সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে দলীয় শক্তির ভিত্তিতে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন এই গণনা অনুসারে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।