পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন শুরু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলেছে। অতীতের নির্বাচনী সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রাজ্য জুড়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে পুরো অঞ্চলকে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২১ সালের নির্বাচন আট দফায় সম্পন্ন হয়েছিল। গতবারের নির্বাচনে ভোট লুট, ইভিএম মেশিন ভাঙচুর, ভোটকেন্দ্রে হামলা এবং নির্বাচনী এজেন্টদের ওপর আক্রমণের মতো ঘটনাগুলো ব্যাপক হারে ঘটে, যা এবারের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক আগমন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছেছে, যারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে আরও বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে:
- ৩১ মার্চ: অতিরিক্ত ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে।
- ১০ এপ্রিল: আরও ৩০০ কোম্পানি যোগ দেবে।
- ১৩ এপ্রিল: ২৭৭ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে প্রবেশ করবে।
- ১৭ এপ্রিল: নির্বাচনের ঠিক আগে ৭৪৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এই বাহিনীর মধ্যে ৩৪৮ কোম্পানি বিভিন্ন রাজ্য থেকে আনা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিভিন্ন রাজ্য থেকে আনা হচ্ছে বাহিনী
নির্বাচনকালীন সময়ে পশ্চিমবঙ্গে মোট আড়াই লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বিশাল কন্টিনজেন্টে হরিয়ানা, বিহার, উত্তরাখণ্ড, আসাম, পাঞ্জাব এবং গোয়া থেকে সশস্ত্র পুলিশ আনা হচ্ছে। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ২৩৪ কোম্পানি সিআরপিএফ, বিএসএফ ও এসএসবি বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে। মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ এবং ত্রিপুরা থেকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করতে।
নির্বাচনোত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন সরবরাহ করা হবে, যা ভোটারদের মাঝে বিলি করা হবে ভোটার ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। ভোটের সময় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি, নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত নির্বাচনে নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে, নির্বাচনের পর এক মাস পর্যন্ত রাজ্যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী রাখা হবে বলে কমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে একটি ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



