নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলায় রাঙামাটির কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম আবদুল্লাহ আল মামুন, যিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উপজেলার রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও আইনি লঙ্ঘন
নির্বাচন কমিশনের মতে, আবদুল্লাহ আল মামুন কোনো পূর্বানুমতি বা ব্যাখ্যা ছাড়াই নির্বাচনের দিন অনুপস্থিত ছিলেন, যা নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। এই আইনি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে, কমিশন তাঁকে দুই মাসের জন্য চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে আইন অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্যকর হবে না শাস্তি, নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
তবে, এই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আবদুল্লাহ আল মামুন ইতিমধ্যে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান প্রথম আলোকে জানান, "তিনি এখন আর কর্মরত নেই, তাই সাময়িক বরখাস্ত বিষয়টি কার্যকর হবে না। তবে, নির্বাচন কমিশনের আইন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল হক বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন অন্য জায়গায় চাকরি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। অন্যদিকে, ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাতেমা আহমেদ সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।
প্রশিক্ষণ নিয়েও দায়িত্ব পালন করেননি
ইউএনও হাসনাত জাহান খান আরও উল্লেখ করেন যে, আবদুল্লাহ আল মামুন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি কী কারণে নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করেননি, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এই ঘটনাটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় সংঘটিত হয়েছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচনী নিয়মকানুনের প্রয়োগ ও তার ফলাফল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে।



