বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যসভার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন, দলীয় বিক্ষোভ উপেক্ষা
নীতীশ কুমার রাজ্যসভার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন, বিক্ষোভ উপেক্ষা

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যসভার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন

বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দলীয় বিক্ষোভ ও আপত্তি উপেক্ষা

নীতীশ কুমারের নিজ দল জেডিইউ-র একাংশের তীব্র বিক্ষোভ ও আপত্তি সত্ত্বেও তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। দলীয় নেতারা এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির চক্রান্ত বলে অভিহিত করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন, কিন্তু নীতীশ কুমার এসব উপেক্ষা করে তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

আজ ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, এবং রাজ্যসভার ভোটাভুটি নির্ধারিত হয়েছে ১৬ মার্চ। বিহার থেকে এবার মোট পাঁচটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এনডিএ জোটের চারটি আসনে জেতার সম্ভাবনা প্রবল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

এই ঘটনা দীর্ঘ ২০ বছর পর নীতীশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সমাপ্তি নির্দেশ করে। তিনি নিজেই বৃহস্পতিবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন, যা থেকে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়।

বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডিও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের নেতা তেজস্বী যাদব গণমাধ্যমে বলেন, "এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, এবং বিজেপিই এর মূলে রয়েছে।"

বিজেপির কৌশল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করে, ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২ আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে বিজেপি ৮৯ ও জেডিইউ ৮৫ আসনে জয় পায়।

সেই থেকে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রিত্ব লাভের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, এবং নীতীশ কুমারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ামাত্র তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। নীতীশ কুমার অনগ্রসর ‘কুর্মি’ শ্রেণির নেতা হিসেবে পরিচিত, এবং তাঁর বদলে সম্রাট চৌধুরীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমার সম্প্রতি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, এবং জোর রাজনৈতিক জল্পনা রয়েছে যে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। এই পরিবর্তন বিহারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।