চট্টগ্রাম-১২ আসনে জামায়াতের ফরিদুল ইসলাম জামানত হারাচ্ছেন, মাত্র ১২ শতাংশ ভোট
চট্টগ্রাম-১২ আসনে জামায়াতের ফরিদুল ইসলাম জামানত হারাচ্ছেন

চট্টগ্রাম-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জামানত হারাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম পেয়েছেন, যা জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি। চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে এই একটিতেই জামায়াতের প্রার্থী এত কম ভোট পেয়েছেন, যা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জামানত রক্ষার শর্ত ও ফলাফলের বিস্তারিত

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৩টি, এবং আসনটিতে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, যিনি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ১১ শতাংশের কাছাকাছি, কিন্তু জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ১২.৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফলে তিনি জামানত হারাচ্ছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের অবস্থা

জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও বাকি ৫ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন, যারা অত্যন্ত কম ভোট পেয়েছেন। তাদের ভোটের সংখ্যা নিম্নরূপ:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নূর: ৯০১ ভোট
  • জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী: ৭৩২ ভোট
  • ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী: ৯২৯ ভোট
  • স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন: ২৪৩ ভোট
  • এলডিপির এম এয়াকুব আলী: ১১৮ ভোট

এই প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা খুবই নগণ্য, যা তাদের জামানত হারানোর প্রধান কারণ।

চট্টগ্রামে জামায়াতের নির্বাচনী অংশগ্রহণ

চট্টগ্রামে মোট ১৬টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের হয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ ছাড়া একটি আসনে ১১ দলীয় জোটের হয়ে এনসিপির প্রার্থী থাকলেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতের এক প্রার্থী। চট্টগ্রাম-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর জামানত হারানো এই অঞ্চলে দলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের একটি চ্যালেঞ্জিং দিক তুলে ধরছে।

এই ফলাফলটি চট্টগ্রাম বিভাগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে, যা ভবিষ্যত নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। জামায়াতের প্রার্থীর জামানত হারানো দলটির স্থানীয় জনসমর্থনের মাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, এবং এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।