জয়পুরহাটে নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত ৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহারকে থানায় নিয়ে যাওয়া
জয়পুরহাটে নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত ৯, সাবেকুন নাহার থানায়

জয়পুরহাটে নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত ৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহারকে থানায় নিয়ে যাওয়া

জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের পেছনে শান্তিনগর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনা ও আহতদের অবস্থা

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার তিনটি গাড়ি নিয়ে শান্তিনগর এলাকায় আসেন। একটি গাড়িতে তিনি নিজে এবং অন্য দুই গাড়িতে তাঁর স্বজন ও কর্মীরা ছিলেন। এ সময় বিএনপির কর্মীরা অভিযোগ তোলেন যে সাবেকুন নাহার ভোট কিনতে এসেছেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক জানান, নির্বাচনী সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষের এবং তিনজন বিএনপি প্রার্থীর লোক। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাসপাতালে আটকা পড়া ও থানায় নিয়ে যাওয়া

সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাবেকুন নাহার আহত স্বজন ও কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে আসেন। হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কর্মীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাবেকুন নাহার হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন। তিনি প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় হাসপাতালে আটকা ছিলেন।

পরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য হাসপাতালে এসে সাবেকুন নাহারকে বের করে জয়পুরহাট সদর থানায় নিয়ে যান। জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, 'স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি বিষয়টি আমাদের জানালে তাঁকে সেখান থেকে থানায় নেওয়া হয়েছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রার্থীদের বক্তব্য ও অভিযোগ

সাবেকুন নাহার বলেন, 'আমি শান্তিনগরে নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। আমার দেবর ও কর্মীদের মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। যাঁরা এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁরা বিএনপি-ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে যুক্ত।' তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ফোনে কল ধরেননি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, 'আমার শরীর একটু খারাপ, বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।'

আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহারের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আসনটি জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত। নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার হওয়ায় এ ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।