পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুটি আসনের ১৫টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এসব বুথে শনিবার (২ মে) নতুন করে ভোট নেওয়া হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এই দুই বিধানসভা এলাকার নির্দিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে কমিশন। তবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের কোনো বুথে পুনরায় ভোট হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পুনরায় ভোটগ্রহণের বিস্তারিত
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) এক আদেশে জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ২৯ এপ্রিল ওই বুথগুলোতে হওয়া ভোট বাতিল করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ৫৮ (২) ধারা অনুযায়ী কমিশন ওই ভোট বাতিল ঘোষণা করে ২ মে পুনরায় ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ১৫টি বুথেই ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল সাতটায় এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। এলাকায় ঢোল পিটিয়ে এই খবর প্রচার এবং সব প্রার্থীকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব বুথে পুনরায় ভোট
মগরাহাট পশ্চিমের যে বুথগুলোতে ভোট হবে, সেগুলো হলো: ৪৬-উত্তর ইয়ারপুর এফপি স্কুল (রুম নম্বর ২), ১২৬-নজরা এফপি স্কুল (রুম নম্বর ১), ১২৭-নজরা এফপি স্কুল (রুম নম্বর ২), ১২৮-দেউলা এফপি স্কুল (রুম নম্বর ১), ১৪২-ঘোলা নয়াপাড়া গার্লস হাই মাদ্রাসা (রুম নম্বর ২), ২১৪-একতারা মালয় এফপি স্কুল (রুম নম্বর ১), ২১৫-একতারা মালয় এফপি স্কুল (রুম নম্বর ২), ২১৬-একতারা মালয় ধোরা এফপি স্কুল (রুম নম্বর ১), ২৩০-বহিরপুয়া কুরকুড়িয়া এফপি স্কুল (রুম নম্বর ১), ২৩১-বহিরপুয়া কুরকুড়িয়া এফপি স্কুল (রুম নম্বর ২) এবং ২৩২-বহিরপুয়া কুরকুড়িয়া এফপি স্কুল (রুম নম্বর ৩)।
ডায়মন্ড হারবার আসনের বুথগুলো হলো: ১১৭-বাগদা জুনিয়র হাই স্কুল, ১৭৯-চন্দ্র এফপি স্কুল (রুম নম্বর ২), ১৯৪-হরিদেবপুর এফপি স্কুল এবং ২৪৩-রায়নগর এফপি স্কুল (রুম নম্বর ২)।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল; দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এবারই রাজ্যটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুই দফা মিলিয়ে মোট ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ভোট গণনা করা হবে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভের পর কলকাতা পুলিশ সাতটি এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে।



