প্রার্থীর ঠিকানা প্রকাশে নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ এনসিপির মিতুর
প্রার্থীর ঠিকানা প্রকাশে নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ এনসিপির মিতুর

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বাসার ঠিকানা প্রকাশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু। দলটির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, ব্যক্তিগত ঠিকানা উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং একাধিকবার হত্যার হুমকি পাওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ

শুক্রবার (১ মে) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মিতু লেখেন, 'একজন প্রার্থীর বাসার পূর্ণ ঠিকানা এভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? খুব ভালোবেসেই একজন বাসার নিচে এসে কল দিলো। কিন্তু এত অবাক হয়েছি যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। নির্বাচন কমিশনের ওপেন করে দেওয়া ঠিকানা দেখে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কল দিয়েছেন।'

তিনি জানান, প্রথমবার মনোনয়ন নেওয়ার সময়ও তিনি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম্যাট।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মিতু বলেন, 'আমার বাসায় আমার সন্তান আছে, আমার মা আছেন। আমি নিজে অধিকাংশ সময় বাসায় থাকি না। এই বাস্তবতায় আমার ঠিকানাটি এভাবে প্রকাশিত হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত তাকে অন্তত ২০ থেকে ২৫ বার বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাতে বাড়ি ফেরার সময়কার একটি অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে মিতু লেখেন, 'গতকাল রাতে বাসায় ঢোকার সময় দেখি দুইজন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা হয়তো অন্য কোনো কারণে ছিল কিন্তু আমার মানসিক অস্থিরতা শুরু হয়ে গিয়েছিলো। আমি প্রায়ই রাত ১১/১২টায় বাসায় ঢুকি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে

দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, 'যেদেশে ৫-১০ হাজার টাকায় মানুষ খুন হয়, খুন তো ডাল ভাতের মতো, সে দেশে এমন বিষয়কে সিরিয়াসলি নেয়া উচিত অবশ্যই।'

সিম্প্যাথি নয়, বরং নীতিগত পরিবর্তনের দাবিতেই পোস্টটি দিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেন মিতু। তিনি লেখেন, 'আমি এই কথা এভাবে বলতে চাইনা সিম্প্যাথির জন্য না, কিন্তু বাসার ঠিকানা নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগত তথ্য, যা এভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়।'

নিয়ম পরিবর্তনের আহ্বান

আগেও বিষয়টি তুলে ধরা হলেও গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মিতু বলেন, 'কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পরই কেবল বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, নিয়ম পরিবর্তনের কথা আসে। কিন্তু যার জীবনে দুর্ঘটনা ঘটে তার জীবন তো শেষ।'

প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে এই নিয়ম দ্রুত পরিবর্তনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।