মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজ) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রম ও শ্রমিকের ওপরেই গড়ে উঠেছে আজকের আধুনিক সভ্যতা। সভ্যতার বিকাশে শ্রমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও তারা শ্রমের মর্যাদা পান না।
শ্রমিকের ঘামে গড়া সভ্যতা
বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, 'আজ আমরা যে আরামের অট্টালিকায় দিন কাটাই, সেসব শ্রমিকের ঘামে গড়া। প্রতিটি ইটে লেগে আছে ঘাম। শ্রম ও শ্রমিকের ওপরেই আজকের আধুনিক সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।' তিনি উল্লেখ করেন, তাজমহল থেকে শুরু করে দুবাইয়ের মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার, রোলস-রয়েসের মতো বিলাসবহুল গাড়ি, এমনকি দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র—সবকিছুতেই শ্রমিকের ঘাম জড়িত।
তিনি আরও বলেন, 'আজকের সমাজ কুলি-মজুর ও সাহেব এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত হয়েছে। সভ্যতা যতই অগ্রসর হচ্ছে, এই বিভাজন ততই শক্ত হচ্ছে। এই পার্থক্য গড়ছে অর্থ। যার অর্থ আছে, সে মালিক; আর যার নেই, সেই শ্রমিক। অথচ সবাই কাজ করে, সবাই শ্রম দেয়, অর্থাৎ সবাই শ্রমিক। তবু মালিকের ভূমিকায় যারা আছেন, তারা এই সহজ সত্য উপলব্ধি করতে পারেন না বা স্বীকার করতে চান না।'
সাংবাদিকদের বঞ্চনা ও ওয়েজবোর্ড
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ মিডিয়ার সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। অথচ ওয়েজবোর্ডে বেতন দেওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন নেওয়া হয়। তিনি এসব ঠকবাজ মালিকদের বিরুদ্ধে ইউনিয়নকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার চিত্র
সাংবাদিকদের এই নেতা বলেন, 'বাংলাদেশে এ বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তাদের পরিবারের পাশে কোনো মালিক দাঁড়ায়নি।' তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কারণে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক নিহত এবং ২২২ জন আহত হয়েছেন।
পত্রিকা বন্ধের প্রতিবাদ
আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। তিনি বলেন, 'অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা ও আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য শেখ হাসিনা সরকার যেমন দায়ী, আমাদের সাংবাদিক নেতারাও কম দায়ী নন। এই চারটি পত্রিকা পুনরায় চালু করতে হবে, এতে অন্তত ১৫০০ সাংবাদিক চাকরির সুযোগ পাবেন।' তিনি অভিযোগ করেন, এসব পত্রিকায় ভিন্নমতের (বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী) সাংবাদিকদের প্রাধান্য ছিল বলেই সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শত শত সাংবাদিক বেকার হয়েছেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না।' আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন একেএম মহসিন, খায়রুল বাশার, এরফানুল হক নাহিদ, আবু বকর, বাবুল তালুকদার, শাহজান সাজু, রফিক মুহাম্মদ, মোদাব্বের হোসেন, দিদারুল আলম, শাহনাজ পলি, খন্দকার আলমগীর, এম মোশাররফ হোসেন, তালুকদার রুমি, আবদুল্লাহ মজুমদার, নিজাম উদ্দিন দরবেশ ও রাজু আহমেদ প্রমুখ।



