কুমিল্লায় পেটে ইয়াবা পাচারকারী গ্রেপ্তার: অভিনব পদ্ধতিতে মাদক লুকানো
কুমিল্লায় পেটের ভেতরে করে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে আব্দুল হাকিম নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে হাইওয়ে থানা পুলিশ। সর্বশেষ শনিবার (১১ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিস্তারিত ঘটনা
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক পাচারকারী আব্দুল হাকিম শনিবার ভোরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকার চক্ষু হাসপাতালে গলির মুখে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পাশে সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করছিলেন। এসময় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে দেহ তল্লাশি করে। পরে তার পেটে চাপ দিলে তিনি পুলিশকে জানান, তার দেহের অভ্যন্তরে অভিনব কায়দায় ইয়াবা লুকায়িত আছে।
পরে তাকে একটি টয়লেটে নিয়ে গেলে তিনি নিজেই তার পায়ুপথে স্কচটেপ মোড়ানো ২৪টি গোলাকার প্যাকেটে ১২০০ ইয়াবা ট্যাবলেট বের করে আনেন। পুলিশের মতে, এর আগে এদিন ভোরে পায়ুপথে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে পাচারের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদক পাচারের অভিনব কৌশল
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি আবুল বাশার জানান, গ্রেপ্তার ওই মাদক কারবারি টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট কিনে অভিনব কায়দায় তার মলদ্বার দিয়ে পেটে ঢুকিয়ে অজ্ঞাতনামা বিভিন্ন বাসে করে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কুমিল্লায় নেমে অন্য একটি বাসের জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন।
গ্রেপ্তার আব্দুল হাকিম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দেলার ২৪ নম্বর ক্যাম্পের মৃত আলী আকবরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের সতর্কতা ও পদক্ষেপ
এই ঘটনায় পুলিশ মাদক পাচারের নতুন পদ্ধতির প্রতি সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, মাদক কারবারিরা ক্রমাগত নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যা শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রয়োজন। এই গ্রেপ্তার মাদক বিরোধী অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মাদক বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, মাদক পাচার ও ব্যবসা বন্ধ করতে তারা কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।



