বান্দরবানে অপহৃত তরুণ মোটরসাইকেল চালকের মুক্তি: ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ক্যংঙ্গারবিল এলাকা থেকে অপহৃত তরুণ মোটরসাইকেল চালক মোর্শেদ আলম (২০) অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকার একটি গহীন পাহাড় থেকে তাকে দুর্বৃত্তরা ছেড়ে দেয় বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
অপহরণের ঘটনা ও মুক্তিপণের দাবি
মোর্শেদ আলম উত্তর বাইশারী গ্রামের মৃত নুরুল হাকিমের ছেলে। তার স্বজনরা জানান, গত রোববার বাইশারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ক্যংঙ্গারবিল এলাকা থেকে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মোর্শেদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। দীর্ঘ চেষ্টা ও মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে পরিবারটি ৩০ হাজার টাকা জোগাড় দুর্বৃত্তদের দেওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরিবারের করুণ অবস্থা
এর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো তার বাবা সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাভাবে পরিবারের পক্ষে তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মোর্শেদ। এই অপহরণ ঘটনায় পরিবারটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
মোর্শেদের বর্ণনা ও পুলিশি তৎপরতা
মুক্তি পাওয়া মোর্শেদ বলেন, "আমাকে চোখ বেঁধে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সারারাত বেঁধে রেখে মারধর করেছে। পরিবারের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর ভোরে আমাকে ছেড়ে দেয়।" তবে পুলিশের তৎপরতার কারণেই অপহরণকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মোর্শেদকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা। তিনি বলেন, "অপহরণের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ টিম পাঠানো হয়। পুলিশি তৎপরতার কারণে তাকে দ্রুত ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছ অপহরণকারীরা।"
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অপহরণ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।



