ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চাচার দায়ের কোপে ভাতিজা নিহত
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পারিবারিক কলহের জেরে চাচা মনির দা দিয়ে কোপ দেন তার ভাতিজা রিফাতকে। এতে রিফাত গুরুতর আহত হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত চাচা মনির পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাচুঁয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত রিফাত (২০) ওই গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মনির এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তিনি ও নিহত রিফাতের বাবা মনসুর আলী সৎ ভাই। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন কলহও ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন সকাল থেকেই মনির বাড়িতে উশৃঙ্খল আচরণ করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি দা ধার দিয়ে নিজের ছেলেকে আঘাত করতে যান। এ সময় রিফাত বাধা দিতে গেলে মনির তার হাঁটুর নিচে দা দিয়ে কোপ দেন। এতে রিফাত গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রিফাতের মৃত্যু হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আতিকুর রহমান বলেন, "অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মনির ও মনসুর আলীর পরিবারের মধ্যে বিরোধ কয়েক বছর ধরে চলছে। জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি পারিবারিক বিভিন্ন ইস্যুও এই সংঘাতের কারণ হিসেবে কাজ করেছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মনির আগেও এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির জন্য পরিচিত ছিলেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত রিফাতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা গভীর শোকে আচ্ছন্ন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।



