মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় সংঘটিত ৩৭.৭৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতি মামলার একজন আসামিকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানি। সোমবার র্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, র্যাব-৬-এর সিপিসি স্পেশাল কোম্পানির একটি বিশেষ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বেলা প্রায় ২টার সময় বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অবস্থিত আল্লাউদ্দিনের চায়ের দোকানে একটি লক্ষ্যযুক্ত অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের সময় ডাকাতি মামলার তদন্তে চিহ্নিত আসামি কিবরিয়া শিকদার (৩৬)কে সফলভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
ডাকাতি মামলার পটভূমি
এজাহার ও তদন্তের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানাধীন বালুরচর এলাকার বাসিন্দা শিপন সরকার (৩৫) এর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ডাকাত দলবল নিয়ে বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং জানালার গ্রিল কেটে ঘরের অভ্যন্তরে ঢোকে।
ডাকাতরা শিপন সরকার এবং তার বড় ভাই শাকিল সরকারের পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে। এরপর তারা ঘরের আলমারিতে সংরক্ষিত প্রায় ৩৭.৭৫ ভরি ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় শিপন সরকার বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়ের করেন, যা থানায় নথিভুক্ত করা হয়।
গ্রেফতারের পরবর্তী পদক্ষেপ
র্যাব-৬ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত আসামি কিবরিয়া শিকদারকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব সূত্রে জানানো হয়, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে ডাকাতি মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চারিত হতে পারে এবং অন্যান্য আসামিদের শনাক্তকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়টি এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার মধ্যে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেফতার করা গেছে, যা অপরাধ দমনে আন্তঃজেলা সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



