পুলিশের বর্তমান পোশাকে অসন্তুষ্টি, ঐতিহ্যমণ্ডিত পোশাক ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট নন। সরকার এই বিষয়ে সচেতন এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত পোশাক প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা
শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুল রহমান, উপাধ্যক্ষ ডিআইজি বসু দেব বণিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "বাংলাদেশ পুলিশের একটি প্রত্যাশা ও আবেদন রয়েছে। সর্বস্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি অনুধাবন করেছি যে বর্তমান পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নন। সুতরাং, ঐতিহ্য মণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক পুলিশ বাহিনী পায় সেজন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত দেব ইনশাআল্লাহ।"
পুলিশ সংস্কার ও আধুনিকীকরণের অঙ্গীকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকার পুলিশকে কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে নয়, বরং জনগণের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। নির্বাচনি ইশতেহারে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- পুলিশ বাহিনীর মনোভাব প্রতিষ্ঠা ও দক্ষতা বৃদ্ধি
- জনবল বৃদ্ধিসহ আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন
- একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "আমরা দায়িত্বে আসার পর থেকেই পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে নিরলসভাবে কাজ করছি, যাতে এটি একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।"
প্রশিক্ষণ সমাপনীর বিস্তারিত
এবারের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে মোট ৭২ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশ নেন, যাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। এই ব্যাচের সদস্যরা পুলিশ একাডেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এখন সারাদেশে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে পুলিশ বাহিনীর উন্নতি ও সংস্কার সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এবং নতুন পোশাকসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সরকারের ইতিবাচক সাড়া প্রতিফলিত হয়েছে, যা পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



