চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়েবাড়িতে গান বাজানোর জেরে মারধরের অভিযোগ, গ্রামের মোড়ল অস্বীকার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়েবাড়িতে গান বাজানোর জেরে মারধরের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়েবাড়িতে গান বাজানোর জেরে মারধরের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি বিয়েবাড়িতে গান বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

কনের বাবা আবুল কালাম আজাদ জানান, ২৩ মার্চ মসজিদ সংলগ্ন তাঁর শ্বশুর আশিকুল ইসলামের বাড়িতে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। ওই দিন সেখানে সাউন্ডবক্সে গান বাজানো হচ্ছিল, তবে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এরপরও গ্রামের মোড়ল শরিফুল ইসলামের নির্দেশে তাঁর লোকজন এসে হুমকিধমকি দেন। তাঁরা ভুল স্বীকার করে মাফ চান এবং গান বাজানো বন্ধ করে দেন।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, ‘ওই ঘটনার জেরে আজ জুমার নামাজ শেষে শরিফুল ইসলাম লোকজনকে উসকে দেন। তাঁর নির্দেশে আমাকে, আমার চাচাতো ভাই মুসলিম ও আহাদ, ফুফাতো ভাই শরিফ, চাচা দুরুল ও আসগরকে মারধর করা হয়। আমার শ্বশুর মসজিদ থেকে পালিয়ে যান। এর পর থেকে আমার শ্বশুর–শাশুড়ি ভয়ে বাড়ি ছেড়ে বাইরে আছেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

কনের খালা তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা ও মা ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন। গ্রামের মোড়ল শরিফুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন হুমকি দিয়ে বলেছেন, “যেখানেই পাবে, আমার বাবাকে মারধর করবে।” আমরা নিরাপত্তাহীনতায়। পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। শনিবার থানায় গিয়ে অভিযোগ করব।’

গ্রামের মোড়লের প্রতিক্রিয়া

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কাউকে মারধর করা হয়নি। গান বাজানোর জন্য কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। এ গ্রামে গত দুই বছর থেকে সাউন্ডবক্সে গান বাজানো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ। গ্রামের লোকজন তাঁদের বলেছেন, নিষিদ্ধ থাকার পরও কেন গান বাজানো হলো। এতে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

গোমস্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। আশিকুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া আক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। থানায় এসে অভিযোগ জানাতে বলেছি।’

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।