কক্সবাজারের রামুতে ফিলিং স্টেশনে শটগান তাণ্ডব: ইটভাটা মালিক বি কে আজম আটক
রামুতে ফিলিং স্টেশনে শটগান তাণ্ডব, ব্যবসায়ী আটক

কক্সবাজারের রামুতে ফিলিং স্টেশনে শটগান তাণ্ডব: ইটভাটা মালিক আটক

কক্সবাজারের রামু উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে শটগান হাতে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে স্থানীয় ইটভাটার মালিক বি কে আজমকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার গভীর রাতে রামুর একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর লাইসেন্সকৃত শটগানটি জব্দ করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের রামু মরিচ্যা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এশিয়া পেট্রলপাম্পে বি কে আজম অস্ত্র উঁচিয়ে তাণ্ডব চালান। তিনি একটি প্রাইভেট কার নিয়ে স্টেশনে এসে অতিরিক্ত জ্বালানি তেলের দাবি করেন। স্টেশনের কর্মচারী জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল নিতে অনুরোধ করলে, তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারীকে মারধর শুরু করেন।

এ সময় তিনি নিজের গাড়ি থেকে লাইসেন্সকৃত শটগান বের করে কর্মচারীদের দিকে তাক করেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা বি কে আজম প্রথমে একজনকে মারধর করেন, পরে শটগান বের করে তাণ্ডব চালান, যা শেষ পর্যন্ত অন্য একজন ব্যক্তি তাঁকে জাপটে ধরে নিবৃত্ত করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের অভিযান ও ব্যবস্থা

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "অস্ত্র উঁচিয়ে ফিলিং স্টেশন কর্মচারীকে মারধর ও তাণ্ডব চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নজরে আসে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে ইটভাটা মালিক বি কে আজমকে আটক করি। তাঁর লাইসেন্স করা শটগানটিও জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এশিয়া পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক নুরুল হক বিস্তারিত জানান যে, পুরো জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুসারে, একটি প্রাইভেট কার এক হাজার টাকার বেশি জ্বালানি নিতে পারে না। কিন্তু বি কে আজম নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকার জ্বালানি তেল দাবি করেন এবং তা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বি কে আজমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও শারীরিক নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হতে পারে। এই ঘটনা জ্বালানি সংকটের সময় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা অস্ত্রের অপব্যবহার এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি নীতির গুরুত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরেছে।