খুলনায় পৃথক দুটি ঘটনায় নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার
খুলনা মহানগরী ও জেলার পৃথকস্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনায় একজনের গলাকাটা অবস্থায় লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এবং প্রাথমিকভাবে লুটপাট ও আত্মহত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
পাইকগাছায় নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রোববার সকালে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের পুতলাখালী গ্রাম থেকে ভারতী মন্ডল (৫৫) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ভারতী প্রভাষ মন্ডলের স্ত্রী এবং পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এসআই) চিন্ময় মন্ডলের মা হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে হানা দিয়ে ভারতী মন্ডলকে জিম্মি করে। তারা ঘরে থাকা আসবাবপত্র তছনছ করে এবং লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভারতী মন্ডলকে গলাকেটে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "এসআই চিন্ময় মন্ডলের মা শরণখোলা থানায় কর্মরত আছেন। প্রাথমিকভাবে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের বিষয়টি জানতে পেরেছি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তের পরে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।"
নগরীতে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যা সন্দেহ
অন্যদিকে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর সোসাইটি হোটেলের চতুর্থ তলার ২০ নম্বর রুম থেকে জীবন কুন্ডু (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নগরীর লবণচরা থানার রিয়া বাজার এলাকার রবিন কুন্ডুর ছেলে হিসেবে পরিচিত।
জীবন কুন্ডু নগরীর আক্তার চেম্বারে টেইলার্সের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মাঝে মধ্যে তিনি বাড়ি ও হোটেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।
খুলনা থানার ওসি মো কবির হোসেন জানান, "মরদেহের পাশ থেকে একটি কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
পুলিশ উভয় ঘটনাই তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।



