র‍্যাবের অভিযানে জেসোরে অপহৃত ব্যবসায়ী জীবিত উদ্ধার, ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি ছিল
জেসোরে অপহৃত ব্যবসায়ী জীবিত উদ্ধার, ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি

র‍্যাবের অভিযানে জেসোরে অপহৃত ব্যবসায়ী জীবিত উদ্ধার

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদসরা জেসোরে অপহৃত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। অপহরণের নয় দিন পর বুধবার রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।

ইটভাটা থেকে উদ্ধার

বুধবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে র‍্যাব সদসরা চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খোলশী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করেন। তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে জেসোরের র‍্যাব ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অপহরণের ঘটনা

সূত্রমতে, জাহাঙ্গীর আলম জেসোর শহরের শঙ্করপুর এলাকায় আরআর মেডিকেল এবং জেআর এগ্রোভেট নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। ২ মার্চ রাত ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে করে তার দোকান থেকে ধর্মতলা সুজালপুর এলাকার বাসায় ফিরছিলেন। পথে দুষ্কৃতীরা তাকে বাধা দিয়ে মাইক্রোবাসে করে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওই রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার মা ও স্ত্রীকে ফোন করে। তারা ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং পুলিশকে জানাতে নিষেধ করে।

প্রেস কনফারেন্স ও তদন্ত

কয়েক দিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে কার্যকর সাড়া না পেয়ে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন ৪ মার্চ জেসোর প্রেস ক্লাবে একটি প্রেস কনফারেন্স করেন। এরপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের তদন্ত ত্বরান্বিত করে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬ এর সিপিসি-৩ জেসোর ক্যাম্পের একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযান নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৬ কোম্পানি কমান্ডার এটিএম ফজলে রবি প্রিন্স।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাথমিক চিকিৎসা ও তদন্ত চলছে

ইটভাটায় অভিযানের সময় জাহাঙ্গীর আলমকে হাত-পা বাঁধা ও বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। মেজর এটিএম ফজলে রবি প্রিন্স জানান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পুরো অপহরণ চক্র শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। র‍্যাবের দ্রুত ও সফল অভিযান এলাকায় নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অপহরণের মতো ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নাগরিকদের আস্থা বাড়াচ্ছে।