মাদারীপুরে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব: টর্চ লাইট জ্বালিয়ে হাতবোমার সংঘর্ষে আহত চারজন
মাদারীপুরে আধিপত্য দ্বন্দ্বে হাতবোমার সংঘর্ষ, আহত চারজন

মাদারীপুরে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে হাতবোমার সংঘর্ষ

মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রোববার রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ বেধেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ অন্তত শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে, যার ফলে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

রোববার (৮ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা নতুন মাদারীপুর এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের সময় হামবোমা বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় খোলা মাঠে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষ বোমা নিক্ষেপ করছে এবং চারপাশে ধোয়া ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলছে। যারা সংঘর্ষে লিপ্ত, তাদের মুখমণ্ডল গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। একটি ফুটেজে পুলিশকে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করতে দেখা যায়।

দীর্ঘদিনের বিরোধ

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিরোধ চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আক্তার ও তাঁর অনুসারীরা এলাকাছাড়া ছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি তারা এলাকায় প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে পুনরায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এই দুই পক্ষের বিরোধ প্রায়ই সংঘর্ষে রূপ নেয়, এবং গত রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব পুরোনো এবং তারা বারবার রাতে একত্র হয়ে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এর আগে এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ হাতবোমা উদ্ধার করা হলেও তাদের থামানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত রাতে দুই পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ আটটি শেল নিক্ষেপ করে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্বের ঘটনা

উল্লেখ্য, গত মাসেও নতুন মাদারীপুর গ্রামে কয়েকবার টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুটি পক্ষ। প্রতিবার হামলার সময় উভয় পক্ষই নিজেদের দাপট দেখাতে হাতবোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।